মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
ফিচার ডেস্ক:
২০২৭ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে মে মাসে। ঈদুল আজহা ও বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটির পরপরই শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা ছয় দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ মিলতে পারে। এ ছাড়া মার্চ, আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসেও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা তিন থেকে চার দিন ছুটি পাওয়া যাবে।
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে সাত দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবারে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিলে কার্যকর সরকারি ছুটি থাকবে ২২ দিন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘২০২৭ খ্রিস্টাব্দের সরকারি ছুটির তালিকা’ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ছুটির বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষে ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ছুটির চার দিন এবং নির্বাহী আদেশের ছুটির তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে। এর মধ্যে তিনটি শুক্রবার ও চারটি শনিবার। সব মিলিয়ে কার্যকর সরকারি ছুটি ২২ দিন।
ছুটির তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বছরের কয়েকটি মাসে সাপ্তাহিক ছুটির আগে বা পরে সরকারি ছুটি পড়ায় টানা কয়েক দিন অবকাশ কাটানোর সুযোগ রয়েছে।
মার্চে দুই দফায় দীর্ঘ ছুটি
মার্চ মাসে দুই দফায় টানা ছুটির সুযোগ রয়েছে। ৫ মার্চ শুক্রবার জুমাতুল বিদা এবং ৭ মার্চ রবিবার শবে কদরের ছুটি। মাঝখানে ৬ মার্চ শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ৫ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত টানা তিন দিন ছুটি কাটানো যাবে।
এরপর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১০, ১১ ও ১২ মার্চ যথাক্রমে বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পরদিন ১৩ মার্চ শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ১০ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত টানা চার দিন ছুটি পাওয়া যাবে। তবে ঈদুল ফিতর ও শবে কদরের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
এ ছাড়া ২৬ মার্চ শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। পরদিন শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এ উপলক্ষে টানা দুই দিন ছুটি মিলবে।
মে মাসে ছয় দিনের ছুটি
বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে মে মাসে। ১৭ থেকে ১৯ মে সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার ঈদুল আজহার ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০ মে বৃহস্পতিবার বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি। এর পরের দুই দিন ২১ ও ২২ মে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি।
সব মিলিয়ে ১৭ থেকে ২২ মে পর্যন্ত টানা ছয় দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকবে। তবে ঈদুল আজহার তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
এর আগে ১ মে শনিবার মে দিবসের ছুটি রয়েছে। দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বাড়তি ছুটি পাওয়া যাবে না।
আগস্টে দুই দফায় ছুটি
আগস্ট মাসেও টানা ছুটির সুযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের সরকারি ছুটি। এর পরের দুই দিন ৬ ও ৭ আগস্ট শুক্রবার ও শনিবার। ফলে ৫ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন দিন ছুটি পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া ১৫ আগস্ট রবিবার ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগের দিন ১৪ আগস্ট শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা দুই দিন ছুটি মিলবে। ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
ডিসেম্বরে বিজয় দিবসে তিন দিনের ছুটি
বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরেও টানা ছুটির সুযোগ রয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিজয় দিবসের সরকারি ছুটি। এর পরের দুই দিন ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার ও শনিবার। ফলে ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন ছুটি কাটানো যাবে।
এ ছাড়া ২৫ ডিসেম্বর শনিবার বড়দিনের ছুটি থাকায় এ দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই দিনের ছুটি
বছরের শুরুতেই ২৪ জানুয়ারি রবিবার শবে বরাতের ছুটি রয়েছে। এর আগের দিন ২৩ জানুয়ারি শনিবার হওয়ায় টানা দুই দিন ছুটি পাওয়া যাবে।
ফেব্রুয়ারিতে ২১ ফেব্রুয়ারি রবিবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটি। এর আগের দিন ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার হওয়ায় এ মাসেও টানা দুই দিনের ছুটির সুযোগ রয়েছে।
অক্টোবর মাসে ৮ ও ৯ তারিখ যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার দুর্গাপূজার ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বাড়তি কর্মদিবসের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে এপ্রিল মাসে ১৪ এপ্রিল বুধবার বাংলা নববর্ষ, জুনে ১৬ জুন বুধবার আশুরা এবং আগস্টে ২৫ আগস্ট বুধবার জন্মাষ্টমীর ছুটি রয়েছে। এসব ছুটির আগে বা পরে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত না হওয়ায় আলাদা করে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।
সরকারি ছুটির তালিকায় উল্লেখ করা মুসলিম ধর্মীয় উৎসবগুলোর তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ফলে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এসব ছুটির তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে।
ভয়েস/আআ